Site icon লোকাল সংবাদ

চাঁদের মাটি স্পর্শ করল বঙ্গকন্যা প্রিয়াঙ্কার নকশা, যা বিশ্বে প্রথমবার

প্রিয়াঙ্কা মল্লিক

প্রতিনিধত্বমুলক

উন্নয়ন, শিক্ষা ব্যবস্থার দিক থেকে বাংলা খুব একটা পিছিয়ে নেই। এখনো বাংলার বহু প্রত্যন্ত গ্রামের ছেলে-মেয়েরা দারিদ্রতার সাথে লড়াই করে নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ছেন। একদিকে বাংলার মুখ যেমন উজ্জ্বল হচ্ছে তেমনি স্বপ্ন পূরণ করতে পেরে গর্বিত হচ্ছে সেই ছেলে বা মেয়ে সহ তার পরিবার। তেমনি সম্প্রতি আবারো এক বিশেষ ক্ষেত্রে নজির গড়লো বাংলা। চাঁদের মাটি স্পর্শ করলো বাংলার মেয়ের হাতের নকশা। যা বিশ্বে এই প্রথমবার। পশ্চিমবঙ্গের হুগলির মেয়ে প্রিয়াঙ্কার হাতের কাজ পৌঁছে গেল চাঁদে। কিভাবে পৌঁছলো? বিষয়টা ঠিক কি?

সূত্রের খবর, যেদিন ‘ডাচেস অফ কর্নওয়াল’ ক্যামিলা পার্কার বোলস রাজা চার্লসের সাথে রাজ্যাভিষেকে উপস্থিত হয়েছিলেন, সেদিন রানীর পরনে ছিল ইটারনাল রোজ থিমের লাল টুকটুকে একটি গাউন। যে গাউনের নকশাটি রানীর খুবই পছন্দ হয়েছিল। এই অনিন্দ্যসুন্দর নকশা দেখে রানী বারংবার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। কিন্তু জানলে অবাক হবেন সেই নকশাটি করেছিলেন বঙ্গকন্যা প্রিয়াঙ্কা মল্লিক। আর সেই নকশাই স্পর্শ করল চাঁদের মাটি।

কিভাবে? খবর অনুযায়ী রাজার চার্লসের কসমিক ব্রোচ এবং রানীর গোলাপ-গাউন দুটি পোশাকের ডিজাইন পছন্দ করেছে ফায়ারপ্লাই এরোস্পেস সংস্থা। আর এই সংস্থা নাসার সহযোগিতায় চন্দ্রযান ‘ব্লু ঘোস্ট লুনার ল্যান্ডার’এর লাইফশি পিরামিডে এই নকশা দুটি অন্তর্ভুক্ত করেছে। যা হুগলির তরুণী প্রিয়াঙ্কা মল্লিকের তৈরি। ফলস্বরূপ বলা যায় বিশ্বের মধ্যে এই প্রথমবার চাঁদে পৌঁছালো কোনো ফ্যাশন ডিজাইনের নকশা। যা করে দেখালো বাংলার এই তরুণী।

আরও পড়ুন: ৯ মাস কাটিয়ে কবে দেশে ফিরবেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামস?

জানা গিয়েছে ভারতীয় সময় অনুযায়ী ২রা ফেব্রুয়ারি রাত ২টোর সময় চাঁদের মাটির স্পর্শ করেছে ওই চন্দ্রযান। তবে তার আগেই অর্থাৎ ১৫ই জানুয়ারি মিশন শুরু হওয়ার পরেই বঙ্গ তরুণী প্রিয়াঙ্কা মল্লিককে ‘ইউনিভার্সাল ফ্যাশন ডিজাইনার’ হিসেবে সম্মানিত করা হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষর দ্বারা স্বীকৃতি পান তিনৎ। ই-মেল মাধ্যমে শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছায় তার কাছে। আর এই স্বপ্ন সফলে খুশিতে আত্মহারা তিনি। তার এই নকশা ব্রিটেনেই বা কিভাবে পৌঁছালো?

প্রসঙ্গত, হুগলি থানার অন্তর্গত দাদপুর থানার বাদিনান গ্রামের মেয়ে প্রিয়াঙ্কা মল্লিক। ইতালির মিলান থেকে ফ্যাশন ডিজাইন নিয়ে পড়াশোনা করেন তিনি। প্রথাগত সেই ডিগ্রী অর্জন করার পর থেকেই শুরু করে জোর কদমে ডিজাইনের কাজ। প্রশংসিত হতে থাকে তার একের পর এক কাজ। তবে ২০২৩ সালে ভাগ্য পরিবর্তন ঘটে তার। বলা যায় ব্রিটেনের রাজা চার্লসের রাজ্যাভিষেকের সময়কালেই ভাগ্য খোলে বঙ্গ তরুণীর। যা নাসার তৈরি চন্দ্রযানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ বিষয়ে তার উক্তি, সংস্থাকে প্রথমে ভার্চুয়ালিভাবে নকশার ছবিগুলি পাঠান তিনি। তারপরে কোম্পানি তরফে তাকে জানানো হয় লাইফশিপ পিরামিডে এই নকশাগুলি অন্তর্ভুক্ত করা হবে। যা তার কল্পনার বাইরে। তবে প্রিয়াঙ্কার এই আনন্দে তার পরিবার তথা গ্রামবাসীরা অত্যন্ত খুশি এবং গর্বিত।

Exit mobile version