Kolkata: প্রকৃতি দ্বারা সৃষ্ট সমস্ত বিপর্যয়ই ক্ষতিকর। তবে সমস্ত দুর্যোগ বা বিপর্যয়ের মধ্যে অত্যন্ত বিধ্বংসী হল ভূমিকম্প। যার আগে থেকে কোনো পূর্বাভাস পাওয়া যায় না। হঠাৎ করেই ভূপৃষ্ঠ কেঁপে উঠে কয়েক মিনিটের মধ্যে সব কিছু তছনছ করে দেয়। সম্প্রতি যার সাক্ষী হয়েছে মায়ানমার। যার রিখটার স্কেলের মাত্রা ছিল ৭ এরও বেশি। কয়েক মিনিটের ভূমিকম্পে তছনছ হয়ে গিয়েছে বার্মা দেশের রাস্তাঘাট, বহুতল বাড়ি সহ যোগাযোগ ব্যবস্থা। যার প্রভাব পড়েছে কলকাতাতেও। ফলেই মহানগরবাসীর মনে প্রশ্ন জাগছে ঘন ঘন ভূমিকম্পে যেভাবে কলকাতায় প্রভাব পড়ছে এক্ষেত্রে কলকাতা কতটা ভূমিকম্প প্রবণ। মহানগরের ইমারতে কি ফাটল ধরার সম্ভাবনা রয়েছে? সম্ভাবনা থাকলেও তা কোন কোন জায়গায় বেশি ঝুঁকিপূর্ণ? জানালেন ভূবিজ্ঞানীরা
ভূমিকম্প কিভাবে সৃষ্টি হয়
পৃথিবীর ভূগর্ভে হঠাৎ শক্তি নির্গমনের ফলে যে কম্পনের সৃষ্টি হয় তাই হল ভূমিকম্প। হঠাৎ ভূপৃষ্ঠের গভীরে ম্যাগমা স্তরের উপরে দুটি মহাদেশীয় প্লেটের অবস্থান রয়েছে। এই দুই মহাদেশীয় প্লেট ভাসমান অবস্থায় যখন স্থান পরিবর্তন করে তখন প্লেটগুলির কিনারায় সংঘর্ষে পীড়নের সৃষ্টি হয়। আর সেই পীড়ন যখন প্রবল আকার ধারণ করে তখন একটি প্লেটের ওপর আরেকটি প্লেট উঠে যায়। আর তখনই অন্তর্নিহিত শক্তি নির্গমনের জন্য ভূপৃষ্ঠ ক্ষনিকের জন্য কেঁপে উঠে ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়। যার ফলে ভূত্বকের ওপরে নানা অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। ঘর-বাড়ির দেওয়ালে ফাটল ধরে, নদীর গতিপথ বদলে যায় ও আরো ক্ষয়ক্ষতি হয়।
ভূমিকম্পের ধরন
সব জায়গায় ভূমিকম্পের ধরন এক নয়। বিভিন্ন জায়গায় ভূমিকম্পের মাত্রা বিভিন্ন ধরনের হয়। সেদিক থেকে ভূমিকম্পকে ৪ ভাগে ভাগ করা হয়। মৃদু ভূমিকম্প, মাঝারি ভূমিকম্প, তীব্র ভূমিকম্প এবং অতি তীব্র ভূমিকম্প। মৃদু ভূমিকম্পের মাত্রা রিখটার স্কেলে ৪.৯ মাত্রা। ৫ থেকে ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্প হলে তা মাঝারি ভূমিকম্প। তীব্র ভূমিকম্প মাত্রা ৭ থেকে ৭.৯। অন্যদিকে ৮ মাত্রার বেশি ভূপৃষ্ঠের কম্পনকে অতি তীব্র কম্পন বলা হয়। সেই অনুযায়ী মায়ানমারে তীব্র কম্পন অনুভূত হয়েছে।
কলকাতা (Kolkata) কতটা ভূমিকম্প প্রবণ?
ঘন ঘন চারিপাশে যে হারে ভুমি কেঁপে উঠছে তাতে করে আতঙ্কিত হচ্ছে শহরবাসী। যার ফলে প্রশ্ন উঠছে কলকাতা ভূমিকম্পের দিক থেকে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। সেই উত্তর দিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছেন ভূ-বিজ্ঞানীরা। ২০১৫ সালে আইআইটি খড়্গপুরে এই বিষয়ে একটি সমীক্ষা করা হয়। যে সমীক্ষায় ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলগুলিকে সাইসমিক জোনে ৪ ভাগে ভাগ করা হয়। সেই ৪টি জোন হল ২,৩,৪,৫। যার মধ্যে জোন ২এর অঞ্চলগুলি রয়েছে কম ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৫ জোনের অঞ্চলগুলি রয়েছে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। সেই অনুযায়ী কলকাতা রয়েছে ৩ ও ৪ সীমারেখায়। যার ফলে দেখা যাচ্ছে কলকাতা (Kolkata) ভূমিকম্প প্রবণ। তবে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন খুব একটা ঝুঁকি না থাকলেও ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলের তালিকা থেকে কলকাতাকে বাদ দেওয়া যায় না।
আরও পড়ুন: কাজ শেষ কলকাতা মেট্রোর ইয়েলো লাইনের, কবে থেকে চালু হবে ফেজ ওয়ান?
কলকাতার (Kolkata) কোন কোন জায়গা রেড জোনের অন্তর্ভুক্ত
ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চল প্রসঙ্গে GSI-এর ডেপুটি ডিরেক্টর শৈবাল ঘোষ জানিয়েছেন, কলকাতার (Kolkata) উত্তর দিকের অঞ্চলগুলি বেশ ভূমিকম্প প্রবণ। অর্থাৎ উত্তরবঙ্গের হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল ভূমিকম্পের দিক থেকে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। যার ফলে ওই অঞ্চলে ভূমিকম্প হলে তার প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে কলকাতাতে। এর আগেও নেপাল, সিকিম, উত্তরবঙ্গের ভূকম্পনে প্রভাব পড়েছে কলকাতাতে। যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাস্তাঘাট, পুরনো বাড়ি, বহুতল বাড়ি। ফলস্বরূপ ভূমিকম্প হলে এই জায়গাগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
কতটা ক্ষতি হতে পারে
ভূমিকম্প হওয়া মানেই যে কলকাতার সমস্ত কিছু ক্ষয়ক্ষতি হবে বা সব বহুতল বাড়ি চূর্ণ-বিচূর্ণ হবে তা কিন্তু নয়। এইসব ভাঙ্গন বা ক্ষয়ক্ষতি নির্ভর করে বেশ কিছু বিষয়ের উপর। মূলত কলকাতার (Kolkata) যেসব বহুতল বাড়ি ভালোভাবে বানানো নয় বা ভগ্নপ্রায় পুরনো বাড়ি, রাস্তার উপরে যেসব বহুতল বাড়ি রয়েছে সেইসব বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে ভূমিকম্পের কারণে। ফলেই আর্কিটেক্টরদের বহুতল নির্মাণের সময় নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী বাড়ি বানাতে হবে। এছাড়াও যেসব জায়গায় জলা জমি ভরাট করে বিভিন্ন বাড়ি বা বহুতল নির্মাণ করা হয়েছে সেই সব জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।