Ishan Kishan: একটি ফোন কল বদলে দিল ঈশান কিষাণের জীবন, ফাঁস শতরানের রহস্য

Ishan Kishan: বিগত দেড় বছরে ঈশান কিষাণের জীবনে নানান উত্থান-পতন এসেছে। একসময় তিনি ভারতের অন্যতম প্রতিশ্রুতিশীল ক্রিকেটার হিসেবে পরিচিত ছিলেন, কিন্তু হঠাৎ করেই তাঁর ক্যারিয়ারে এক ধাক্কা আসে। শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ভারতীয় দল থেকে বাদ পড়েন এবং কেন্দ্রীয় চুক্তিও হারান। জাতীয় দলে নিয়মিত সুযোগ পাওয়া ক্রিকেটারদের জন্য কেন্দ্রীয় চুক্তি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি শুধুমাত্র আর্থিক দিক থেকেই নয়, বরং খেলোয়াড়ের মানসিক দৃঢ়তারও প্রতিফলন ঘটায়। চুক্তি হারানোর ফলে ঈশানের ওপর চাপ আরও বেড়ে যায়।

দৃঢ়তার গল্প

আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি মুম্বই ইন্ডিয়ান্সও তাঁকে দলে রাখেনি। এই দলেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে খেলেছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেছেন, কিন্তু হঠাৎ করেই দল থেকে বাদ পড়ায় তাঁর আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা লাগে। হতাশ না হয়ে ঈশান (Ishan Kishan) কঠোর অনুশীলন, মানসিক দৃঢ়তা এবং ফিটনেসের ওপর বেশি মনোযোগ দেন। তিনি নিজের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করেন, ওজন কমিয়ে আরও বেশি ফিটনেস বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেন এবং প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা নেটে ব্যাটিং অনুশীলন করেন। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে প্রথম ম্যাচেই শতরান করেন। এটি শুধুমাত্র একটি ইনিংস নয়, বরং তাঁর প্রত্যাবর্তনের প্রতীক। তিনি প্রমাণ করেছেন যে কঠোর পরিশ্রম এবং মানসিক দৃঢ়তা থাকলে যেকোনো প্রতিকূলতা জয় করা সম্ভব। এই পারফরম্যান্স তাঁর ক্রিকেটীয় মানসিকতার প্রতিফলন। একজন খেলোয়াড় কেবল শারীরিকভাবে নয়, মানসিকভাবেও শক্তিশালী হতে হয়। ঈশান কিষাণ সেটাই দেখিয়েছেন।

ঈশান কিষাণের (Ishan Kishan) ব্যাটিংয়ের রহস্য ফাঁস

ম্যাচের পর ঈশান (Ishan Kishan) জানান, নিলামের পর অভিষেককে ফোন করে জিজ্ঞাসা করেন, “আমার কাজ কী?” সাধারণত, খেলোয়াড়রা নতুন দলে যোগ দিলে তাঁদের ভূমিকা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে চান। ঈশানও ব্যতিক্রম ছিলেন না। অভিষেক সরাসরি বলেন যে, হ্যাঁ, তিনি ঠিকই ধরেছেন, প্রত্যেক বলে শট খেলতে হবে। এই ধরনের আক্রমণাত্মক খেলার কৌশল ঈশানের ব্যাটিং স্টাইলের সঙ্গে মিলে যায়, যা তাঁকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। এই কথাগুলো ঈশানকে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। ব্যাটিংয়ের সময় তিনি কোনো দ্বিধা ছাড়াই নিজের স্বাভাবিক খেলা খেলতে পেরেছেন। ক্রিকেটে আত্মবিশ্বাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্সে সরাসরি প্রভাব ফেলে।

ম্যাচের সংক্ষিপ্ত বিবরণ

রবিবার আইপিএলের ২০২৫-এর দ্বিতীয় ম্যাচটি হয় হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধি স্টেডিয়ামে। এই মাঠে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ সবসময়ই ভালো খেলে, কারণ এটি তাদের হোমগ্রাউন্ড। নিজেদের ঘরের মাঠে রাজস্থান রয়‍্যালসকে ৪৪ রানে হারায় সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। ম্যাচের শুরু থেকেই হায়দরাবাদের ব্যাটসম্যানরা আক্রমণাত্মক মনোভাব দেখায়, যার ফলে বড় স্কোর গড়ে ওঠে। ঈশান কিষাণ আইপিএলে তাঁর প্রথম শতরান করেন এবং প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ হন। শতরান করা যে কোনো ব্যাটসম্যানের জন্যই বিশেষ অর্জন, বিশেষ করে যখন সেটি তাঁর নতুন দলের হয়ে প্রথম ম্যাচে আসে। ম্যাচের পর ঈশান কিষাণ (Ishan Kishan) বলেন যে, তিনি একটু ভয়েই ছিলাম, কিন্তু প্যাট কামিন্স ও কোচ প্রচুর আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছেন। একজন ক্রিকেটারের জন্য দলনেতা এবং কোচের সমর্থন খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি মাঠে তাঁর পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলে।

অধিনায়ক ও কোচের প্রতিক্রিয়া:

পুরস্কার বিতরণীতে কামিন্স বলেন যে, কিষাণ অবিশ্বাস্যভাবে পারফর্ম করেছেন। তিনি একটা বেঞ্চমার্ক সেট করেছেন। অধিনায়ক হিসেবে কামিন্স জানেন, একজন ব্যাটসম্যানের আত্মবিশ্বাস কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এবং তিনি সেটাই ঈশানকে বুঝিয়েছেন। ঈশান কিষাণও (Ishan Kishan) কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, দলের জন্য কী করতে হবে, সেটা অধিনায়ক জানেন। ভয় না করেই তাদের পরিকল্পনা করতে হবে। এটি স্পষ্ট যে, ঈশান কিষাণ এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী এবং ম্যাচ জেতানোর জন্য তিনি নিজের সেরাটা দিতে প্রস্তুত।

আরও পড়ুন: কীসের টানে ৪৩ বছর বয়সেও সিএসকের হয়ে খেলছেন? রহস্য ফাঁস করলেন হরভজন

ভবিষ্যতের সম্ভাবনা:

ঈশান কিষাণের দুর্দান্ত কামব্যাক ক্রিকেট বিশ্বে আলোড়ন তুলেছে। অনেকেই মনে করছেন, এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি শুধু আইপিএলে নয়, বরং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও নিজের জায়গা পুনরুদ্ধার করতে পারবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পারফরম্যান্স জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ তৈরি করতে পারে। ভারতীয় দলের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করলে, ঈশান কিষাণের (Ishan Kishan) মতো একজন আগ্রাসী ব্যাটসম্যান ও দক্ষ উইকেটরক্ষক দলে দরকার। আগ্রাসী ব্যাটিং ও উইকেটরক্ষকের দক্ষতা তাঁকে ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে পারে। তিনি শুধু একজন ব্যাটসম্যান নন, বরং একজন সম্পূর্ণ খেলোয়াড়, যিনি মাঠে দলকে নেতৃত্ব দিতে পারেন এবং চাপের মুখেও পারফর্ম করতে সক্ষম।

দেখার বিষয়

এখন দেখার বিষয়, তিনি এর বাকি ম্যাচগুলোতে ফর্ম ধরে রাখতে পারেন কিনা। আইপিএল দীর্ঘ একটি টুর্নামেন্ট, যেখানে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে তাঁর এই প্রত্যাবর্তন প্রমাণ করে, ভবিষ্যৎ যে উজ্জ্বল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। ঈশান কিষাণ (Ishan Kishan) ইতিমধ্যেই প্রমাণ করেছেন যে, তিনি বড় মঞ্চের জন্য প্রস্তুত এবং জাতীয় দলে ফেরার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। এই পারফরম্যান্স শুধু তাঁর ক্যারিয়ারকেই বদলে দিতে পারে না, বরং ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যত পরিকল্পনাতেও বড় পরিবর্তন আনতে পারে। এখন সময়ই বলে দেবে, ঈশান কিষাণ ঠিক কতদূর যেতে পারেন!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *