Kolkata Metro: কলকাতার গণপরিবহনগুলির মধ্যে বিশেষ পরিবহন হল মেট্রো রেল। যা কলকাতাবাসীর যাতায়াতের লাইফ লাইন। ফলে যাত্রীদের সুবিধার্থে নতুন নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করছে কলকাতা মেট্রো কর্তৃপক্ষ। সেইমতো যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে শেষ হয়েছে কলকাতা মেট্রোর ইয়েলো লাইনের ফেজ ওয়ানের কাজ। অপেক্ষা শুধু উদ্বোধনের। কবে উদ্বোধন হবে? কবে থেকেই বা মেট্রো ছুটবে ইয়েলো লাইনে? কত কিলোমিটার বিস্তৃত হয়েছে? এতে মেট্রো কর্তৃপক্ষেরই বা কি সুবিধা?
ইয়েলো লাইন বিস্তারের পরিকল্পনা
মূলত মেট্রো যাত্রীদের দের সুবিধার জন্যই মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ তরফে ইয়েলো লাইন বিস্তারের পরিকল্পনা করেন। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ১৮ কিলোমিটার ইয়েলো লাইনের বিস্তার ঘটানোর। যার রুট হল নোয়াপাড়া টু বারাসাত। তবে পুরো রুটের কাজ এখনো পর্যন্ত শেষ হয়নি। সম্প্রতি শেষ হয়েছে ফেজ ওয়ানের কাজ। সেই পথই উদ্বোধনের অপেক্ষায় মেট্রো (Kolkata Metro) রেল কর্তৃপক্ষ।
শেষ ফেজ ওয়ানের কাজ
কলকাতা মেট্রোর (Kolkata Metro) ইয়েলো লাইনের ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ নোয়াপাড়া টু বারাসাত রুটের ফেজ ওয়ানে ৭ কিলোমিটার পথ নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেই মতোই সম্প্রতি শেষ হয়েছে ফেজ ওয়ানের কাজ। দ্রুত এই লাইনে মেট্রো চলাচল শুরু করার জন্য ঝড়ের গতিতে ফেজ ওয়ানের কাজ শেষ করে মেট্রো রেল।
উদ্বোধনের অপেক্ষায় কলকাতা মেট্রো (Kolkata Metro) কর্তৃপক্ষ
তবে ইয়েলো লাইনের ফেজ ওয়ানের কাজ শেষ হলেও এখনই চালু হচ্ছে না সেই লাইনের মেট্রো চলাচল। মূলত সিআরএস-এর অনুমোদনের অপেক্ষাতে রয়েছে কলকাতা মেট্রো কর্তৃপক্ষ। আর তাদের অনুমোদন পেলেই ইয়েলো লাইন দিয়ে ছুটতে শুরু করবে মেট্রো। কলকাতা মেট্রো তরফে খবর, এপ্রিলেরই কোনো এক দিনে এই ইয়েলো লাইনের পরিদর্শনে আসবেন প্রতিনিধিরা। পরিদর্শনের পর এই লাইনে মেট্রো চলাচলের অনুমোদন দিলে জুন জুলাই করেই ইয়েলো লাইন দিয়ে ছুটতে পারে মেট্রো। যা জানিয়েছেন মেট্রো কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন: কলকাতা মেট্রোর মানচিত্রে নয়া পালক, জুড়ছে নতুন ২০টি রেক
ইয়েলো লাইনের আকর্ষণীয় স্টেশন
৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ইয়েলো লাইনে যে স্টেশনগুলি পড়বে তা হল নোয়াপাড়া, দমদম ক্যান্টনমেন্ট, যশোহার রোড এবং বিমানবন্দর। আর এই স্টেশন গুলির মধ্যে বিশেষ আকর্ষণীয় স্টেশন হলো বিমানবন্দর স্টেশন। ৫ প্লাটফর্ম বিশিষ্ট এই স্টেশন নির্মিত হয়েছে প্রায় ২০ হাজার বর্গমিটার এলাকা জুড়ে। যার মধ্যে ইয়েলো লাইনের জন্য প্ল্যাটফর্ম নিশ্চিত করা হয়েছে ১ ও ২ নম্বর। অন্যদিকে নিউ গড়িয়া যাতায়াতের জন্য অরেঞ্জ লাইনের জন্য রাখা হয়েছে বাকি তিনটে প্ল্যাটফর্ম। যার ঠিক ৩০০ মিটার দূরে ১৭ হাজার বর্গমিটার জায়গা জুড়ে নির্মাণ করা হয়েছে ভূগর্ভস্থ স্টেবলিং ইয়ার্ড। ১৩ মিটার গভীরে নির্মিত হয়েছে এই ইয়ার্ড। যেখানে রাখা যাবে মেট্রোর রেক।
কলকাতা মেট্রোর লাভ
তবে ৭ কিলোমিটার ইয়েলো লাইনের ফেজ ওয়ানের মেট্রো চলাচল শুরু হলে বাণিজ্যিকভাবে লাভ করবে কলকাতা মেট্রো। উল্লেখ্য প্রথমে ইয়েলো লাইনের ফেজ ওয়ানে ৩ কিলোমিটার পথ প্রশস্তের পরিকল্পনা করেছিল কলকাতা মেট্রো (Kolkata Metro)। যা নোয়াপাড়া থেকে দমদম ক্যান্টনমেন্ট পর্যন্ত। সিআরএস তরফে অনুমোদনও হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু পরে মেট্রো তরফে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়। ভাবনা চিন্তা করা হয় দমদম ক্যান্টনমেন্ট পর্যন্ত মেট্রো চলাচল করলে যাত্রী সংখ্যা অনেকটাই কম হবে। ফলেই বাণিজ্যিকভাবে লাভ করার জন্য বিমানবন্দর পর্যন্ত অর্থাৎ অতিরিক্ত ৪ কিলোমিটার পথ বৃদ্ধি করে কলকাতা মেট্রো। যার মধ্যে বিমানবন্দর স্টেশন দিয়েই প্রায় যাত্রী পরিবহন হবে ৮০ হাজারের কাছাকাছি। তাই পথ বৃদ্ধি করে প্রায় যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে শেষ করে সেই কাজ। আর সেই অতিরিক্ত পথের অনুমোদনের অপেক্ষাতেই রয়েছে কলকাতা মেট্রো। অন্যদিকে বিমানবন্দর পর্যন্ত মেট্রো চলাচল শুরু হলে বিরাট পরিবর্তন ঘটবে গণপরিবহনে।