Waqf Property Law: ওয়াকফ আইন নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। এই বিতর্কের মধ্যেই সংসদে পেশ করা হবে ওয়াকফ সংশোধনী বিল। আশা করা যাচ্ছে যে যদি সমস্ত কিছু ঠিকঠাক থাকে তাহলে হয়তো বিলটি পাশ করাতে বিশেষ সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে না মোদি সরকারকে। তবে প্রশ্ন একটা থেকেই যাচ্ছে, এই বিল নিয়ে এত বিতর্ক কেন সৃষ্টি হয়েছে? ওয়াকফ সংশোধনী বিল নিয়ে কেন এত বিরোধিতা করছে তৃণমূল, কংগ্রেস-সহ বিরোধী শিবির? বিস্তারিত জেনে নিন আজকের এই প্রতিবেদনে।
ওয়াকফ (Waqf Property Law) কী?
প্রথমে জেনে নিতে হবে ওয়াকফ কি। ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা যে সম্পত্তি ধর্মপ্রচার এবং সমাজের উন্নতিকল্পে দান করেন, সেটাকে ওয়াকফ বলে। আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা কখনোই ওয়াকফ সম্পত্তি বিক্রি করতে পারবে না বা ব্যবসায়ীক স্বার্থে ব্যবহার করতে পারবে না। ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন যে, ওয়াকফ আসলে ঈশ্বরের সম্পত্তি।
ওয়াকফ (Waqf Property Law) বোর্ড কী?
সুলতানি আমল থেকে ওয়াকফ সম্পত্তি রক্ষা করার জন্য আলাদা বোর্ড বা কমিটি গড়ার ধারণা এই দেশে শুরু হয়ে গিয়েছিল। ওয়াকফ বোর্ডের ধারণা দ্বাদশ শতাব্দী থেকেই তৈরি হয়েছিল। এই বোর্ডের মূল কাজ ছিল ওয়াকফ সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিয়ন্ত্রণ করা। ভারত স্বাধীন হওয়ার পা কমিটি গড়ার ধারণা এই দেশে শুরু হয়ে গিয়েছিল। ওয়াকফ বোর্ডের (Waqf Property Law) ধারণা দ্বাদশ শতাব্দী থেকেই তৈরি হয়েছিল। এই বোর্ডের মূল কাজ়া হয়েছিল। ২০১৩ সালেও একবার ওয়াকফ আইন সংশোধন করা হয়েছে। এই মুহূর্তে ওয়াকফ বোর্ডের সারা দেশে ৮.৭ লক্ষেরও বেশি সম্পত্তি রয়েছে, যা ৯.৪ লক্ষ একর জুড়ে বিস্তৃত। জানলে অবাক হয়ে যাবেন যে, রেল এবং ভারতীয় সেনার পর দেশে সবচেয়ে বেশি সম্পত্তি হল ওয়াকফ বোর্ডেরই।
প্রস্তাবিত ওয়াকফ সংশোধনী বিল (Waqf Property Law)
প্রস্তাবিত ওয়াকফ সংশোধনী বিলের (Waqf Property Law) ৪০ নম্বর ধারা আইন অনুযায়ী, ওয়াকফ বোর্ডের দখল করা সম্পত্তি বা জমিতে কোন ধরনের সরকারি রিভিউ বা পর্যালোচনা করার নিয়ম নেই। অর্থাৎ ওয়াকফ বোর্ড পর্যালোচনা ছাড়াই জমি দখল করতে পারে। কোনও সম্পত্তি নিয়ে ব্যক্তিগত মালিকানা এবং ওয়াকফ বোর্ডের আইনি বিবাদ চললেও সরকারের কোনোরকম হস্তক্ষেপ করার অধিকার নেই। যাতে এই ধরনের সমস্যা না ঘটে কিংবা ঘটলেও তার সমাধান করা যায় তার জন্যই এই আইনে মূলত ওয়াকফ অধিকার খর্ব করতে চাইছে। বিতর্কিত কোনও সম্পত্তির মালিকানা আদতে কার, সেই বিষয়ে খতিয়ে দেখার কোনরকম অধিকার সরকারের নেই। আইনি এক্তিয়ার সরকার নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছে। একাধিক ক্ষেত্রে ওয়াকফ বোর্ডের যে আধিপত্য রয়েছে তা খর্ব করতে চাইছে সরকার।
জেলাশাসক বা সমমর্যাদার আধিকারিকের ক্ষমতায়ন
নতুন সংশোধনী বিল অনুসারে, ওয়াকফ বোর্ডের একচ্ছত্র অধিকার কোনভাবেই মানতে রাজি নয় সরকার। তাদের অধিকারকে খর্ব করে কোনও সম্পত্তি ওয়াকফ কি না, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হবে জেলাশাসক বা সমপদমর্যাদার কোনও আধিকারিকের হাতে। এছাড়াও পাশাপাশি নতুন বিলে ওয়াকফ বোর্ডে দুই অমুসলিম সদস্যের অন্তর্ভুক্তির বন্দোবস্ত নিয়েও বেশ আপত্তি উঠেছে। একটি কেন্দ্রীয় পোর্টালের মাধ্যমে ওয়াকফ সম্পত্তির নথিভুক্তিকরণ নিয়ন্ত্রণ করার প্রস্তাব। পুরনো আইন কি বলছে? কোনও সম্পত্তিকে ওয়াকফ সম্পত্তি ঘোষণা করলে, এই সম্পত্তির কোনোরকম পরিবর্তন হবে না অর্থাৎ তা চিরদিনের জন্য ওয়াকফ সম্পত্তি হিসাবেই থেকে যেত। নতুন বিল পাশ হলে এই ধারণাতে আঘাত আনা হবে। ফলে যে সম্পত্তি ওয়াকফ বোর্ডের বলে ঘোষণা করে, তাতে ইসলামিক ধর্মস্থান বা অন্য কোনও ইসলামিক প্রার্থনাস্থল তৈরি হলেও সেই জমি আর কখনোই ব্যক্তিগত সম্পত্তি হতে পারবে না।
আরও পড়ুন: অপেক্ষার অবসান, হাওড়া থেকে ছুটবে বুলেট, চলছে জোর কদমে প্রস্তুতি
কেন ওয়াকফ সংশোধনী করা হচ্ছে?
কেন্দ্রীয় সরকার দাবি করেছে বর্তমানে যে আইন রয়েছে, তাতে ওয়াকফের দখল করা জমি বা সম্পত্তিতে কোনরকমভাবে কেন্দ্রীয় সরকার কোন হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। এমনকি এই ধরনের সম্পত্তিতে পর্যালোচনা করার অধিকারও থাকে না সরকারের। দেখা যাচ্ছে জমির মালিকের আপত্তি সত্ত্বেও জমি বা সম্পত্তি দখল করতে পারে ওয়াকফ বোর্ড। বিজেপির দাবি, ওয়াকফ সম্পত্তির সমস্ত সুবিধা ভোগ করছে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী। সাধারণ মুসলিমরা এর থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। নতুন আইন কার্যকর হলে সাধারণ মুসলিমরা উপকৃত হবেন। তাছাড়া, সাচার কমিটির রিপোর্টেও বলা হয়েছিল ওয়াকফ নিয়মের সংস্কারের প্রয়োজন।
কেন ইন্ডিয়া জোট এর বিরোধিতা করছে?
সংখ্যালঘুদের একাংশ মনে করছে যে, যদি একবার এই বিল পাশ হয়ে যায় তাহলে ইসলামিক সম্পত্তি সরকার হস্তগত করবে। বিরোধীরা সরব হয়েছে যে, এই বিল ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের স্বত্ত্বায় যেন একপ্রকার আঘাত হানা হচ্ছে। বিশেষ করে ওয়াকফ বোর্ডে অমুসলিমদের প্রবেশ নিয়ে বিরোধী শিবির প্রথম থেকেই প্রবল আপত্তি জানিয়েছে। তাঁদের দাবি একটি নির্দিষ্ট ধর্মকে টার্গেট করার জন্য এই বিল।