Wrist Watch Of Salman: অযোধ্যা জায়গাটি উত্তরপ্রদেশের এমন একটি জায়গা যার গুরুত্ব শুধুমাত্র হিন্দুদের কাছে নয় পাশাপাশি এই স্থানটি ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কাছেও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণটা আশা করি সকলেরই জানা তাহলে বাবরি মসজিদ। মন্দির এবং মসজিদ নিয়ে অশান্তির যে আগুন জ্বলেছিল, গোটা দেশ পুড়েছিল সেই আগুনে। হিন্দু এবং মুসলিমদের মধ্যে জায়গাটি নিয়ে দ্বন্দ্ব দীর্ঘ বছরের। যদিও বর্তমানে অযোধ্যায় নির্মিত হয়েছে রামমন্দির। কিন্তু মুসলিমদের কাছে এই জায়গাটির গুরুত্ব কিন্তু এখনো কমেনি।
রামচন্দ্রের জন্মস্থান
উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যা হল শ্রীরামের জন্মভূমি এবং হিন্দুদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র একটি স্থান। স্থানটির মাহাত্ম্য কখনো হিন্দুদের কাছে কম হয়নি। তার উপর রামমন্দির স্থাপিত হওয়াতে জায়গাটির গুরুত্ব অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। নবনির্মিত রামমন্দির দর্শনের জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছে মানুষ।
সালমানের ঘড়ি
এপিক এক্স রাম জন্মভূমি এডিশন ২’ ঘড়িতে বর্ণিত হয়েছে অযোধ্যার ইতিহাস। এবার সেই ঘড়ি (Wrist Watch Of Salman) পরতে দেখা গেল এক বলিউড অভিনেতাকে। বলিউড অভিনেতা সলমন খানের হাতে দেখা গেল এই বিশেষ এডিশনের ঘড়ি। ইতিমধ্যেই ঈদ উপলক্ষে মুক্তি পেয়েছে অভিনেতা সালমান খানের নতুন ছবি ‘সিকন্দর’। তাঁর বিপরীতে রয়েছেন দক্ষিণী অভিনেত্রী রশ্মিকা মন্দানা। সর্বত্র ছবির প্রচার করছেন সলমন খান। তার হাতের ওই ঘড়ি নজর এড়াতে পারেনি মিডিয়ার। তারপর থেকেই ইসলামি নেতাদের চক্ষুশূল হয়ে ওঠেন অভিনেতা।
অযোধ্যার ইতিহাস
বলিউডের ভাইজানের হাতে এই ঘড়ি (Wrist Watch Of Salman) যেন উস্কে দিয়েছে অযোধ্যার ইতিহাসকে। হিন্দুদের কাছে এই স্থানটির মূল্য অনেক বেশি কারণ এখানের জন্ম হয়েছিল রামচন্দ্রের। পাশাপাশি মুসলিমদের কাছেও এর গুরুত্ব কম নয় কারণ এখানে ছিল বাবরি মসজিদ। বাবরি মসজিদ ধ্বংস হওয়ার পর হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে যে সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল তার প্রভাব পড়েছিল গোটা দেশে। ১৯৯২-এ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল মসজিদ। তা নিয়ে দীর্ঘ দিন মামলাও চলে। দীর্ঘ চাপানউতর পর্বের পর ২০১৯ সালে ওই মসজিদের জায়গাতেই নতুন করে মন্দির নির্মাণের রায় দেয় দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সেই জায়গাতেই স্থাপন করা হয় জনপ্রিয় রামলালার মন্দির। ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সেই মন্দির উদ্বোধন করেন।
আরও পড়ুন: আসছে ব্লকবাস্টার হেরাফেরি ৩, মুখ্য ভূমিকা কারা থাকছেন?
ঘড়িটির বিশেষত্ব কী?
ঘড়িটি (Wrist Watch Of Salman) যদি ওপর থেকে একঝলক দেখেন দেখে মনে হবে কোন স্পোর্টস ওয়াচ। ঘড়িটিতে রয়েছে কমলা রঙের বেল্ট এবং সোনার ডায়াল যুক্ত আর উল্লেখযোগ্য হল এখানে খোদাই করা রয়েছে রাম জন্মভূমি অর্থাৎ, অযোধ্যার ইতিহাস। তার এক পাশে সাজানো রয়েছে হিন্দু দেবতাদের প্রতিরূপ। বিলাস-ঘড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থা জেকব অ্যান্ড কোম্পানির কর্ণধার জেকব আরাবোর সঙ্গে সলমন খানের সম্পর্ক বহুদিনের। অভিনেতার জন্য ‘লিমিটেড এডিশন’-এর বহু ঘড়ি জেকবের সংস্থা তৈরি করেছে। ওই সংস্থা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে অযোধ্যায় রামলালার মন্দির উদ্বোধনের বিশেষ মুহূর্তকে স্মরণে রেখেই হাতেগোনা ‘রাম জন্মভূমি’ ঘড়ি তৈরি করা হবে।
ঘড়ি (Wrist Watch Of Salman) নিয়ে উত্তপ্ত সমাজমাধ্যম
বলিউডের ভাইজান নিজে একজন মুসলিম এবং মুসলিম হয়ে কিভাবে তিনি এই ঘড়িটি পরলেন সেটাই আশ্চর্যের। সমাজমাধ্যম বিষয়টি নিয়ে রীতিমতো আলোড়ন তৈরি করেছে। এক সাক্ষাৎকারে সর্বভারতীয় মুসলিম জামাত সংগঠনের সভাপতি মৌলানা শাহবুদ্দিন রাজভি ঘড়িটিকে ‘হারাম’ বলে উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ ইসলামে যা নিষিদ্ধ। তিনি বলেন, সলমন খান একজন মুসলিম এবং তিনি নিজেও ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী। তার অনুরাগীর সংখ্যা নেহাত কম নয়। এমন কাজ তার কখনোই করা উচিত না যা ইসলাম ধর্ম বিরুদ্ধ। সমাজমাধ্যমে ঘড়িটি পরে নিজেই ছবি পোস্ট করেছেন ভাইজান। নেটাগরিকদের একাংশ বিষয়টি নিয়ে অন্য মত পেশ করেছেন। এটি হয়তো ‘সিকন্দর’ ছবির প্রচারের একটি অংশ মাত্র। তবে নিন্দুকেরা যা-ই বলুক, মা সালমা খানের দেওয়া এই উপহার তার কাছে অত্যন্ত প্রিয়।