Duare Ration Prakalpa: ভারত সরকার দেশের নাগরিকদের জন্য একাধিক সাহায্যকারী প্রকল্প উদ্বোধন করে রেখেছে। এর মধ্যে বিনামূল্যে রেশন পরিষেবা হলো অন্যতম। একাধিক মানুষ দেশে রয়েছেন যাদের রোজকার খাবার জোগাড় করতেই হিমশিম খেতে হয়। সেইসব মানুষদের এই বিনামূল্যে রেশন পরিষেবা দেওয়ার কথা ভাবে ভারতীয় কেন্দ্রীয় সরকার। পশ্চিমবঙ্গেও সেই একই প্রকল্প চালু রয়েছে। কিন্তু সমস্যা হলো রাজ্যের বিভিন্ন অংশ থেকে উঠে আসা দুর্নীতির অভিযোগ।
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য জুড়ে একের পর এক ওঠা দুর্নীতির অভিযোগে মানুষের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। সরকারি প্রকল্পের অর্থ নয়-ছয় করা বা যোগ্যদের বঞ্চিত করে অযোগ্যদের মধ্যে সেই অর্থ প্রদান করা সব নিয়ে প্রায়শই তোলপাড় হয় সংবাদমাধ্যম। এর মধ্যে অন্যতম হলো রেশন দুর্নীতি। আর সেই জন্য এই প্রকল্প ঘুরে পশ্চিমবঙ্গে সবসময় থাকে সমালোচনার মহল। শুধুমাত্র দুর্নীতির কারণে রাজ্যের একাধিক নেতা মন্ত্রী জেলে আটক রয়েছে। বিশেষত ভুয়ো গ্রাহক দেখিয়ে খাদ্যসামগ্রী লুটের ঘটনায় জর্জরিত হয়ে রয়েছে রাজ্য। আর এবার সেই জন্যই দুয়ারে রেশন প্রকল্প (Duare Ration Prakalpa) নিয়ে কড়া পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার।
অনেক ক্ষেত্রেই দুয়ারে রেশন প্রকল্পে (Duare Ration Prakalpa) রেশনের জিনিসের ওজন মাপার জন্য বহু জায়গায় সরকার প্রদত্ত মেশিন বন্ধ রেখে দাঁড়িপাল্লা ব্যবহার করা হয়। আর এর মাধ্যমে ওজন বেশি দেখিয়েও কম জিনিস দেয় ডিলাররা। কোথাও আবার ওজন পরিমাপ করার জন্য ব্যবহার করা হয় ইট বা পাথরের টুকরো।
আরও পড়ুন: গঙ্গার পর এবার হুগলি নদীর নিচে তৈরি হবে টানেল, বড় সিদ্ধান্ত বন্দর কর্তৃপক্ষের
এবার এই সমস্ত কারচুপি আটকাতে বড় এবং কড়া পদক্ষেপ নিলো রাজ্য। দুয়ারে রেশন প্রকল্পের (Duare Ration Prakalpa) দুর্নীতি সহ একাধিক সমস্যার সমাধান করতে দুয়ারে রেশন প্রকল্পের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার জারি করলো নতুন নির্দেশিকা। যেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে এখন থেকে সপ্তাহে চারদিন দুয়ারে রেশন পৌঁছে দিতে হবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিলারদের।
এছাড়া বলা হয়েছে প্রত্যেক সপ্তাহের মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি ও শুক্রবার দুয়ারে রেশন (Duare Ration Prakalpa) পৌঁছে দিতে হবে। আর এই চারদিন সংলগ্ন এলাকার ফির প্রাইস শপ বা রেশন দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি মেশিন ঠিকঠাক ওজন করে তবেই গ্রাহকদের হতে যোগ্য খাদ্যশস্য তুলে দিতে হবে। সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতেও রেশন দোকান থেকেই খাদ্যদ্রব্য বিক্রি করতে পারবেন ডিলাররা। এক্ষেত্রে শনি ও রবিবারেও খোলা রাখতে হবে রেশন দোকান। মূলত ডিলারদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতেই এই পথে হাঁটলো রাজ্য সরকার।