Site icon লোকাল সংবাদ

2016 SSC Panel: এসএসসি নিয়ে বিরাট ঘোষণা সুপ্রিম কোর্টের, বাতিল হল ২৬ হাজারের প্যানেল

2016 SSC Panel

প্রতিনিধত্বমুলক

2016 SSC Panel: ভাঙনের পথে শিক্ষা ব্যবস্থা। বেশ কয়েক বছর ধরেই কেস চলছিল ২০১৬ -এর এসএসসি প্যানেল নিয়ে। হাইকোর্ট রায় দিলেও সেই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে কেস তোলে রাজ্য। এবার সেই ২০১৬-এর এসএসসি প্যানেল নিয়েই চূড়ান্ত রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত তরফে ২০২৫ -এর ৩রা এপ্রিল বৃহস্পতিবার বাতিল করা হলো প্রায় ২৬ হাজার প্যানেলের চাকরি। ফলে বড়সড় ক্ষতির মুখে যোগ্য কর্মীরা। কেন বাতিল করা হলো পুরো প্যানেল? যোগ্য আর অযোগ্যদের বাছাই হলো না কেন? কি হবে এবার যোগ্য কর্মীদের? অযোগ্যদের কি বেতন ফেরত দিতে হবে?

নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ

২০১৬ সালে এসএসসির পর স্কুল সার্ভিস কমিশনের তরফে বড় ধরনের নিয়োগ প্রক্রিয়া হয়েছিল। নিয়োগ প্রক্রিয়ার পরেই নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে অভিযোগ ওঠে ২০১৬ -এর এসএসসি প্যানেল (2016 SSC Panel) নিয়ে। এই ২৬ হাজারের প্যানেলে বড়সড়মাপের নিয়োগ দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে কেস করা হয়। নানান দিক থেকে বিচার বিবেচনা করে এই নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে রায় দিয়ে দেয় হাইকোর্ট।

এসএসসি (2016 SSC Panel) মামলায় হাইকোর্টের রায়

এসএসসি প্যানেলের (2016 SSC Panel) নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে হাইকোর্টে কেস চললে ২০২৪ -এর ২২শে এপ্রিল হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে হাইকোর্টের তরফে রায় ঘোষণা করা হয়। যেখানে হাইকোর্ট ঘোষণা করে ২০১৬ -এর ২৬ হাজারের এসএসসি প্যানেল বাতিল করা হলো। পাশাপাশি নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল মন্ত্রিসভার বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্ত করার। হাইকোর্টের রায়ে প্রায় ২৫ হাজার ৭৫৩ জন শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীরা চাকরি হারিয়েছিলেন।

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ সুপ্রিমকোর্টে

তবে কলকাতা হাইকোর্ট তরফে ২০১৬ -এর এসএসসি প্যানেল বাতিল করা হলে তা মানতে চায়নি রাজ্য সরকার। ফলে রাজ্য সরকার, এসএসসি এবং মধ্যশিক্ষা পর্ষদ তরফে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করে। দফায় দফায় শুনানি হয় এই কেসের। শেষ শুনানি হয়েছিল গত ১০ই ফেব্রুয়ারি। যেখানে হাইকোর্টের ২৬ হাজার চাকরির প্যানেল বাতিলের রায় বহাল থাকার মতামত দিয়েছিল সিবিআই। অন্যদিকে ওএমআর সিটে কোনো কারচুপির তথ্য নেই বলে জানিয়েছিল এসএসসি। পাশাপাশি রাজ্য সরকার থেকে জানানো হয়েছিল, একসঙ্গে এটজনের চাকরি বাতিল করলে ভাঙন ধরবে শিক্ষা ব্যবস্থায়। এই নানা রকম প্রশ্নের ফলে সেদিন রায়দান স্থগিত রেখেছিল শীর্ষ আদালতের বিচারপতি। তবে ৩রা এপ্রিল বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত রায় জানালো সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি।

আরও পড়ুন: কলকাতার চারিপাশের ভূমিকম্পে বারংবার অভিঘাত, এবার কি কলকাতার পালা?

চূড়ান্ত রায় শীর্ষ আদালতের

২০২৫ সালের ৩রা এপ্রিল ২০১৬ -এর এসএসসি প্যানেল নিয়ে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করল সুপ্রিম কোর্ট। যেখানে শীর্ষ আদালতের বিচারপতি সঞ্জীব খান্না সমস্ত রকম পর্যবেক্ষণ করে হাইকোর্টের রায় সঠিক বলে জানান তিনি। এদিন শীর্ষ আদালতের উচ্চপদ থেকে সঞ্জীব বাবু ঘোষণা করেন, ২০১৬ সালের এসএসসি প্যানেলের (2016 SSC Panel) নিয়োগ প্রক্রিয়া পুরোটাই অস্বচ্ছ, ভুলে ভরা। তাই কলকাতা হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছে তা একদম সঠিক। অযোগ্য, দাগি চাকরিরত কর্মীদের চাকরি যাওয়া উচিত।

যোগ্যদের জন্য বিশেষ বার্তা

সুপ্রিম কোর্টে এসএসসি প্যানেল নিয়ে দাফায় দফায় শুনানি চলাকালীন স্কুল সার্ভিস কমিশন তরফে অযোগ্য যোগ্যদের আলাদা করে একটা তালিকা প্রকাশ করে। যেখানে প্রথম তালিকায় প্রায় ৫ হাজার অযোগ্য শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীর তালিকা জমা পড়ে। পরবর্তীতে আরো বেশ কিছু দাগি চাকরিরত কর্মীদের নাম জমা দেওয়া হয়। যেখান থেকে কিছুটা হলেও যোগ্যদের আলাদা করতে পেরেছে সুপ্রিম কোর্ট।

যোগ্যদের জন্য বিশেষ বার্তা

ফলে দুর্নীতির কারণে ২০১৬ -এর এসএসসি প্যানেল (2016 SSC Panel) বাতিল করা হলেও যোগ্যদের জন্য বিশেষ বার্তা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। যেখানে জানানো হয়েছে অযোগ্যরা আর কোনো চাকরির পরীক্ষার ক্ষেত্রে সুযোগ পাবে না। তবে অন্যদিকে যোগ্য কর্মীদের চাকরি গেলেও তাদের বয়স সীমা বাড়িয়ে নতুন করে চাকরির পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাবে। এছাড়াও যেসব কর্মীরা চাকরির আগে সরকারের যে দপ্তরে কাজ করতেন সেই দপ্তরে কাজের জন্য আবেদন জানাতে পারেন। যা রাজ্য সরকারকে বিচার বিবেচনা করতে হবে ৩ মাসের মধ্যে। অপরদিকে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন চাকরিহারা কর্মীদের চাকরি গেলেও বেতন বন্ধ হবে না বলে জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, এই বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের মানবিকতার খাতিরে নিয়োগ প্রক্রিয়া না হওয়া পর্যন্ত বেতন দেবে সরকার। তবে অন্যদিকে আগের মতোই এই এসএসসি মামলার ফৌজদারি তদন্ত চলবে বলে জানিয়েছে শীর্ষ আদালত।

Exit mobile version